“আমার ROAS ৩, তাহলে তো লাভ হচ্ছে, তাই না?” উত্তর হলো: নির্ভর করে। কারো জন্য ROAS ২-ই লাভজনক, আবার কারো ROAS ৪ হলেও লস। এই পার্থক্য বোঝার চাবি হলো Break-even ROAS। এই লেখায় ধাপে ধাপে দেখবো এটা কীভাবে বের করবেন, বাংলাদেশি ই-কমার্সের বাস্তব হিসাব দিয়ে।

ROAS আর Break-even ROAS কী?
ROAS (Return on Ad Spend) = অ্যাড থেকে আসা বিক্রি ÷ অ্যাডের খরচ। যেমন ১,০০০ টাকা অ্যাডে খরচ করে ৩,০০০ টাকার বিক্রি হলে ROAS = ৩।
Break-even ROAS হলো সেই ROAS, যেখানে আপনার লাভও নেই, লসও নেই। এর ওপরে থাকলে লাভ, নিচে নামলে লস। তাই অ্যাড ভালো না খারাপ, সেটা বিচার করার আগে এই সংখ্যাটা জানা জরুরি।
সূত্র
Break-even ROAS = বিক্রয়মূল্য ÷ অ্যাডের আগের লাভ
এখানে “অ্যাডের আগের লাভ” মানে বিক্রয়মূল্য থেকে প্রোডাক্টের দাম, ডেলিভারি, প্যাকেজিং আর অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পর যা থাকে, অ্যাডের খরচ বাদে। একই কথা শতাংশে: Break-even ROAS = ১ ÷ প্রফিট মার্জিন।
উদাহরণ: একটা ১,৫০০ টাকার প্রোডাক্ট
| খরচ | টাকা |
|---|---|
| বিক্রয়মূল্য | ১,৫০০ |
| প্রোডাক্টের কেনা দাম | ৬০০ |
| ডেলিভারি চার্জ (যেটা আপনি বহন করেন) | ১০০ |
| প্যাকেজিং | ৩০ |
| অ্যাডের আগের লাভ | ৭৭০ |
Break-even ROAS = ১,৫০০ ÷ ৭৭০ = প্রায় ১.৯৫।
অর্থাৎ ROAS ১.৯৫-এর ওপরে থাকলে লাভ। আরেকভাবে বললে, একটা অর্ডার পেতে অ্যাডে সর্বোচ্চ ৭৭০ টাকা খরচ করা যায়। এটাকে বলে Break-even CPA।
রিটার্ন আর ক্যানসেল ধরতেই হবে
ক্যাশ অন ডেলিভারিতে সব অর্ডার পৌঁছায় না। ধরুন ১০০টা অর্ডারের মধ্যে ১৫টা রিটার্ন বা ক্যানসেল হয়। তখন:
- আসল বিক্রি হয় ৮৫টা, কিন্তু অ্যাডের খরচ হয়েছে ১০০টা অর্ডারের জন্য।
- রিটার্ন হওয়া অর্ডারেও সাধারণত ডেলিভারি খরচ আপনাকে দিতে হয়।
সহজ হিসাব: অ্যাডস ম্যানেজার যে ROAS দেখায়, সেটাকে আপনার ডেলিভারি সাকসেস রেট দিয়ে গুণ করুন। ১৫% রিটার্ন হলে আসল ROAS ≈ দেখানো ROAS × ০.৮৫। আর রিটার্নের ডেলিভারি খরচও লাভ থেকে বাদ দিন।
ডলার আর টাকার হিসাব মিলিয়ে নিন
বাংলাদেশে অনেকের অ্যাড অ্যাকাউন্ট ডলারে, কিন্তু বিক্রি টাকায়। অ্যাড খরচের হিসাব করবেন আপনার কার্ড বা ব্যাংক আসলে যে রেট আর চার্জ কাটে সেটা ধরে, শুধু গুগলের ডলার রেট দিয়ে না। নইলে Break-even হিসাব ভুল হবে।
মার্জিন অনুযায়ী Break-even ROAS
| প্রফিট মার্জিন (অ্যাডের আগে) | Break-even ROAS |
|---|---|
| ২০% | ৫.০০ |
| ২৫% | ৪.০০ |
| ৩০% | ৩.৩৩ |
| ৪০% | ২.৫০ |
| ৫০% | ২.০০ |
| ৬০% | ১.৬৭ |
এই টেবিল থেকেই বোঝা যায়, কম মার্জিনের প্রোডাক্টে ফেসবুক অ্যাড দিয়ে লাভ করা কঠিন। মার্জিন ২০%-এর নিচে হলে আগে দাম, অফার বা বান্ডেল ঠিক করুন।
শুধু Break-even না, Target ROAS ঠিক করুন
Break-even মানে শূন্য লাভ। আপনি যদি প্রতি অর্ডারে ২০০ টাকা লাভ রাখতে চান, তাহলে:
Target ROAS = বিক্রয়মূল্য ÷ (অ্যাডের আগের লাভ − চাওয়া লাভ)
উদাহরণে: ১,৫০০ ÷ (৭৭০ − ২০০) = ১,৫০০ ÷ ৫৭০ = প্রায় ২.৬৩। এই সংখ্যার ওপরে থাকলে আপনি প্রতি অর্ডারে অন্তত ২০০ টাকা লাভ করছেন।
এই নম্বর দিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবেন
- ROAS Target-এর ওপরে, স্থির কয়েক দিন: ধীরে বাজেট বাড়ান। কীভাবে, পড়ুন ফেসবুক অ্যাড স্কেলিং-এর ৭টি নিয়ম।
- Break-even আর Target-এর মাঝখানে: বাজেট একই রাখুন, নতুন ক্রিয়েটিভ টেস্ট করুন।
- Break-even-এর নিচে: অফার, দাম বা ক্রিয়েটিভ বদলান। কয়েক দিনেও না বদলালে ক্যাম্পেইন থামান।
সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
অ্যাডস ম্যানেজারের ROAS কি সঠিক?
পুরোপুরি না। ট্র্যাকিং মিস, রিটার্ন আর ক্যানসেল এতে ধরা পড়ে না। তাই মাস শেষে নিজের হিসাব (মোট বিক্রি ÷ মোট অ্যাড খরচ) মিলিয়ে দেখুন।
Messenger-এ অর্ডার নিলে ROAS কীভাবে বের করবো?
প্রতিদিনের অর্ডার আর বিক্রির টাকা একটা শিটে লিখুন, তারপর ওই দিনের অ্যাড খরচ দিয়ে ভাগ করুন। পিক্সেল না থাকলেও এই হিসাব করা যায়।
সব প্রোডাক্টের Break-even কি একই?
না। প্রতিটা প্রোডাক্টের মার্জিন আলাদা, তাই Break-even ROAS-ও আলাদা। প্রতিটার জন্য আলাদা হিসাব রাখুন।
প্রফিটেবল অ্যাড চালানোর পুরো সিস্টেম হাতে-কলমে শিখতে দেখুন Facebook Ads Mastery (Ads Scaling) কোর্স, অথবা শুরু করুন ফ্রি 100 Dollar A Day ওয়ার্কশপ দিয়ে।
লেখক: মোঃ রিদয় হাসান (Trainer Ridoy), ফেসবুক অ্যাডস এক্সপার্ট ও ডিজিটাল মার্কেটিং ট্রেইনার। ২০২২ সাল থেকে ১০,০০০+ শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। লেখক সম্পর্কে আরও জানুন।
One Response